বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি:
ভারতের সীমান্তবর্তী সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের গজুকাটা এলাকায় বহু বছর আগে ব্রিটিশ শাসনামলে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামবাসীরা। বর্তমানে মসজিদটির সংস্কারকাজ আইনগত জটিলতায় আটকে রয়েছে। বাংলাদেশ—ভারত যুগ্ম সীমান্ত নির্দেশাবলি অনুযায়ী, শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য উভয় দেশের সম্মতি প্রয়োজন হয়। এই নিয়মের ফলে মসজিদের স¤প্রসারণ ও সংস্কারকাজে আপত্তি জানাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মুসল্লিদের জন্য জায়গা সংকুলান না হওয়ায় গ্রামবাসী মসজিদটি বর্ধিত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু চার বছর আগে সংস্কার শুরু করলেও বিএসএফের বাধার কারণে কাজ থেমে যায়। একই অবস্থা গ্রামের একমাত্র যাতায়াত সড়ক ও কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। সড়কটি পাকা করার কাজ শুরু হলেও বিএসএফের বাধায় তা বন্ধ রয়েছে।
সীমান্ত পিলার ১৩৫৭—এর মাত্র ২০ গজের মধ্যে পড়ায় শত বছরের পুরোনো এই মসজিদটির সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী, বিভাজনের আগে থাকা স্থাপনাগুলোর অবস্থা অপরিবর্তিত রাখতে হয় এবং নতুন কোনো নির্মাণ করা যায় না। ফলে গ্রামের জামে মসজিদ এবং যাতায়াত সড়ক উভয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, মসজিদের বর্ধিত অংশের কিছু কাজ তারা চার বছর আগে সম্পন্ন করেছিলেন, কিন্তু ছাদ ঢালাইয়ের সময় বিএসএফ বাধা দেয়। এরপর থেকে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। গ্রামবাসী বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন। বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের বিয়ানীবাজার অধিনায়ক (সিগন্যালস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক জানিয়েছেন, সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আইনগতভাবে মসজিদ এবং সড়কের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানে বিজিবি পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দুই দেশের শীর্ষ পর্যায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, ধর্মীয় উপাসনালয়ের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করলে সমাধান সম্ভব হতে পারে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
