ফেনী প্রতিনিধিঃ
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক গত এক মাসে ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৬৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন (জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো) করা হয়েছে। নারী, শিশু ও পুরুষসহ এসব পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা হলেও তারা সবাই জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। ফেনীর ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পার্শ্ববর্তী সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসব পুশইনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ৪ বিজিবি ও ১০ বিজিবি। বিজিবির তথ্যমতে, গত ২২ মে ৩৯ জন এবং ১৯ জুন ১১ জন বাংলাদেশিকে সীমান্তে ছেড়ে দেয় বিএসএফ।
সর্বশেষ ৩০ মে আরও ১৩ জনকে পুশইন করা হয়। এদের মধ্যে কুড়িগ্রাম, যশোর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা আমাদের দেশের নাগরিক। আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী তাদের ফেরত পাঠানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু বিএসএফ তা উপেক্ষা করে অমানবিকভাবে রাতের অন্ধকারে, বৈরি আবহাওয়ায় আমাদের সীমান্তে তাদের ছেড়ে দিচ্ছে, যা শিষ্টাচারবহির্ভূত।”
তিনি আরও বলেন, “তারা শূন্য রেখা পার হয়ে যখন আমাদের দেশে প্রবেশ করে, তখন মানবিক বিবেচনায় আমরা তাদের আটক না রেখে পরিচয় যাচাই সাপেক্ষে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠিয়ে দিচ্ছি।” পুশইন হওয়া কুড়িগ্রামের বাসিন্দা মো. আলতাফ বলেন, “আমি ভারতে ইটভাটায় কাজ করতাম। হঠাৎ একদিন বিএসএফ আমাদের চোখ ও হাত বেঁধে সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয়।” এদিকে পুশইনের ঘটনা বাড়ায় সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
ফুলগাজীর পৈথারা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, “এভাবে বারবার পুশইনের ঘটনা ঘটলে আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে।” ছাগলনাইয়া উপজেলার আরেক বাসিন্দা নাজিম বলেন, “সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও পুশইন কীভাবে ঘটে—এই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে।” বিজিবি সূত্র জানায়, ভারত থেকে পুশইন হওয়া ৬৩ জনের নাগরিকত্ব যাচাই করে তাদের নিজ নিজ জেলায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার প্রতিবাদপত্র পাঠানো হলেও বিএসএফের পক্ষ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বারবার এই ধরনের ঘটনা মানবিক, কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত দিক থেকে উদ্বেগজনক। সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
