দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম একটি ভয়াবহ দিন আজ। এই দিনটির কথা মনে পড়লে আজও কেঁদে উঠেন জাপানের মানুষ। ১৯৪৫ সালের এই দিনে (৬ আগস্ট) আমেরিকা জাপানের হিরোশিমায় এবং ৩ দিন পর (৯ আগস্ট) নাগাসাকিতে দুটি পারমাণবিক বোমা ফেলে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় দেশটি।
জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে আঘাত করা লিটল বয় ও ফ্যাট ম্যান বোমা দুটি ম্যানহাটন প্রকল্পের অধীনে তৈরি হয়েছিল।
কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই নামগুলো তৎকালীন জনপ্রিয় সংস্কৃতি বা মজার চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাখা হয়। যেমন—১৯৪২ সালের একটি হলিউড সিনেমা ‘দ্য থিন ম্যান’ এর নাম থেকেই সম্ভবত ‘লিটল বয়’ এবং ‘ফ্যাট ম্যান’ নামকরণে অনুপ্রেরণা পাওয়া গিয়েছিল।
এই নামগুলোর মাধ্যমে দেখা যায়, বিজ্ঞানীরা এমন ভয়াবহ প্রকল্পের মধ্যেও নিজেদের মানসিক চাপ কমাতে রসবোধের আশ্রয় নিতেন। রবার্ট ওপেনহেইমার ও তার সহকর্মীরা মজা করেই এই নাম দিয়েছিলেন। এটি ছিল এক ধরনের মানসিক চাপ কমানোর কৌশল।
ম্যানহাটন প্রকল্পে ওপেনহেইমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রবার্ট সেরবার নামের এক পদার্থবিজ্ঞানী এই নাম দুটি প্রস্তাব করেছিলেন বলে অনেক গবেষক মনে করেন। পরবর্তীতে আমেরিকার অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রেরও আকর্ষণীয় নাম রাখা হয়, যেমন—‘রাউন্ডফিশ’, ‘হেল্ডা’ ইত্যাদি। সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বোমার নাম ছিল ‘জার বোম্বা’—যা তাদের ইতিহাসে ‘জার’-এর প্রতীক।
যদিও বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর নাম সাধারণত মডেল নম্বর বা প্রযুক্তিগত নাম হয় (যেমন: বি৬১, ডব্লিউ৮৮), তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এ ধরনের নামকরণ ছিল নজিরবিহীন।
১৯৪৫ সালে আমেরিকা কেবল দুটি পারমাণবিক বোমা প্রস্তুত করেছিল। তৃতীয় বোমা তৈরির প্রক্রিয়া চলছিল, যেটি আগস্টের শেষের দিকে প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যদি জাপান আত্মসমর্পণ না করত, তবে আরো শহরের ওপর বোমা ফেলার পরিকল্পনা ছিল আমেরিকার।
সূত্র : নিউজ ১৮
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
