আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্থিতিশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ ও জিরো টলারেন্স পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন।
তারা বলেছেন, অতীতে যেভাবে নির্বাচনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হয়েছে এ নির্বাচনে তা চলবে না। একই সঙ্গে নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও আস্থাবহ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদার, নিরপেক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকার প্রতি গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নির্বাচনে সষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক শিরোনামে সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা আশা ব্যক্ত করেন অতীতের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে সশস্ত্র বাহিনী এবার জাতিকে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে। সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ, ন্যায়সংগত ও জিরো-টলারেন্স প্রয়োগ নির্বাচনী পরিবেশকে নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং জনগণের আস্থার উপযোগী করবে। উপমহাদেশের বহু দেশে দেখা গেছে, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতাই ভোটকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আশা করেন সেনাবাহিনী জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খাঁন সাইফ (অব.) বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে, যাতে তারা নিরপেক্ষতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে পারে। এই বিষয়ে সেনাপ্রধানের দৃঢ় অবস্থান রাষ্ট্রের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ড্রোন মনিটরিং, বডি-অন ক্যামেরা, লাইভ ভোট সেন্টার ও নিরাপত্তা ডেটা অ্যানালাইসিস ব্যবহার করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরো বৃদ্ধি করা হবে।
এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও প্রশাসনের মধ্যে একটি সমন্বিত কমান্ড স্ট্রাকচার গড়ে তোলা হবে, যাতে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়।নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার রোকন উদ্দিন (অব.) বলেন, আসন্ন নির্বাচন যাতে সময় মতো না হয় সেজন্য অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারত এসব কাজ করাচ্ছে। আইজিপি, কমিশনার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছে আমরা প্রস্তুত, কিন্তু জনগণের দৃষ্টি বলছে আপনারা প্রস্তুত না। আপনাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাভ নেই, এখনো তিন মাস সময় আছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির জন্য।
তিনি আরো বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যেহেতু চাইছে সেনাবাহিনী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবে, সে ক্ষেত্রে আগের মতো হলে চলবে না। তাদের দায়িত্ব দিলে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যেন পুরোপুরি প্রয়োগ করতে পারে সে অধিকার দিতে হবে।গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, বর্তমান সরকার আসন্ন নির্বাচনের জন্য এখনো পরিবেশ নিশ্চিতে মনোযোগ দেয়নি। কারণ পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী এখনো ফাংশন করছেন না। শুধু সেনাবাহিনীর দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। যেখানে সমস্যা সংকট, সেখানে সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে থাকি আমরা। ঠিক আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে, তারা চাইলে সষ্ঠু ও ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দিতে পারবে। এজন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে হবে।
আমজনগণ পার্টির সদস্যসচিব ফাতেমা তাসনিম বলেন, দেশের সকলের আশা-ভরসার জায়গা থেকে একটি কাঙ্খিত সরকার পেতে হলে সুষ্ঠু ভোট প্রয়োজন। সে জায়গা থেকে এখন আমরা আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর ভূমিকা দেখে শঙ্কিত। কারণ এ অবস্থা চলতে থাকলে মনে হয় আমার ভোট কেন্দ্র দখল ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়ে যাবে কি না? তাই আমরা চাচ্ছি ভোটের মাঠেও সশস্ত্র বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা যেন ব্যবহার করতে পারে। তার জন্য আলাদা করে যেন কোনো প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন না হয়।
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ ও সংগঠক বাপ্পী সরকার ও এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সার্জেন্ট (অব.) মুশফিকুর রজিম রনি প্রমুখ।