Thursday , 27 August 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
‘আমাকে একটু আশ্রয় দাও‌, আমি চারজনকে খুন করে আসছি’
--সংগৃহীত ছবি

‘আমাকে একটু আশ্রয় দাও‌, আমি চারজনকে খুন করে আসছি’

অনলাইন ডেস্কঃ

‘দাদা- আমাকে একটু পানি দাও, আমাকে একটু আশ্রয় দাও‌; আমিতো গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে চলে আসছি’- পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে একটি শ্মশানে গিয়ে সেখানের গার্ড বিদ্যুৎ দাসকে এভাবে কথাগুলো বলেছেন রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার আসামি মুগ্ধ দাস।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ।

পুলিশ জানায়, রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরের দিকে পুলিশ যখন মুগ্ধ দাসের বাড়িতে অভিযানে যায়, তখন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মুগ্ধ। পরে তাকে ধাওয়া করলে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মাহিগঞ্জ-দখীগঞ্জ শ্মশানে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন মুগ্ধ। এ সময় শ্মশানের গার্ড বিদ্যুৎ দাসের কাছে ওই চারজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন মুগ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ বলেন, বিদ্যুৎ দাস শ্মশানের গার্ড। তিনি একাই থাকেন শ্মশানে। বিদ্যুৎ দাসের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তিনিও আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে হত্যার ঘটনায় আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তীর হাতে ধরা পড়ার ভয়ে প্রথমে তাকে এবং পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতি হিসেবে দেখাতে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় আসামিরা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চারজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালতে দেওয়া আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যেরও মিল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন রাতে সীমান্ত দাস, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। ছাদের পানির ট্যাংকির আড়ালে বসে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। একপর্যায়ে ভোর হয়ে গেলে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে ফেলেন।

আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সিদ্ধার্থ তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে দেন এরপর দুজন দুই দিক থেকে গামছা টানলে তার মৃত্যু হয়।

গণপতির লাশ টিন দিয়ে ঢেকে রাখার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী ছাদে চলে আসেন। তারা চিৎকার শুরু করলে মুগ্ধ প্রীতিলতার গলা চেপে ধরেন এবং সিদ্ধার্থ আগামীকে গলা চেপে ধরে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরে আসামিরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র ও আলমারি এলোমেলো করে ঘটনাটিকে ডাকাতির মতো দেখানোর চেষ্টা করেন। সেখানে পরিবারের এক শিশুকে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন তারা। শিশুটি সিদ্ধার্থকে চিনে তার নাম ধরে ডাকায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার আশঙ্কায় আসামিরা একটি প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন। এরপর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে কিছু স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ আরও জানায়, ইয়াবা কেনার টাকা জোগাড় করতে আগে মোবাইল ফোন বন্ধক রেখেছিলেন আসামিরা। গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে নেওয়া ১৫ হাজার টাকার মধ্যে সিদ্ধার্থের ভাগে পাওয়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে তিনি বন্ধক রাখা মোবাইল ফোনটি ছাড়িয়ে নেন। ঘটনার পরদিন তিনি স্বাভাবিকভাবে স্বর্ণের দোকানে কাজে যান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, সীমান্ত দাসের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের বক্তব্যে ঘটনার মূল বর্ণনায় বেশ কিছু মিল পাওয়া গেছে। ইয়াবা সেবনের জন্য ছাদে যাওয়া, গণপতি চক্রবর্তীর হাতে ধরা পড়া, এরপর পরিবারের সদস্যদের হত্যা এবং ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা—এসব বিষয়ে তাদের বক্তব্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। তবে ইয়াবা সেবনের সংখ্যা নিয়ে দুই আসামির জবানবন্দিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

এ ঘটনায় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে শনাক্ত ‘শান্ত’কে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply