Thursday , 25 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
ফের মাশুল বাড়ানোর উদ্যোগ

ফের মাশুল বাড়ানোর উদ্যোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চার দশক পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের বিভিন্ন সেবার বিপরীতে মাশুল কাঠামো পুনির্র্নধারণের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন এই কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০ ফুট কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ১৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৩.১৫ ডলার এবং ৪০ ফুট কনটেইনারের ক্ষেত্রে ২২.৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৪.৮৩ ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে, জাহাজ পাইলটিং চার্জ ৩৫৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৭০০ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মোট ৫৬টি সেবার মধ্যে ১৮টি খাতে ৬০ শতাংশের বেশি, ১৭টি খাতে ২০–৫৯ শতাংশ এবং ১৯টি খাতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মাত্র ২টি সেবায় মাশুল হ্রাসের সুপারিশ রয়েছে। বন্দরের এই প্রস্তাব ঘিরে আমদানি—রপ্তানি সংশ্লিষ্ট খাত এবং ব্যবসায়ী মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, অতিরিক্ত মাশুল আরোপ সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটাবে, উৎপাদন ব্যয় বাড়াবে এবং পরোক্ষভাবে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পণ্যমূল্য বৃদ্ধির চাপ তৈরি করবে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ—সভাপতি এ. এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় প্রতি বছরই মাশুল বাড়ায়, অথচ তা বাস্তবতার নিরিখে যৌক্তিক হয় না। বিশেষ করে, যেহেতু বন্দরের অধিকাংশ সেবার মূল্য ডলারে পরিশোধ করতে হয়, তাই ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ার কারণে টাকায় এর চাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।এদিকে রপ্তানিমুখী শিল্পপতিরা বিষয়টিকে আরও গুরুতরভাবে দেখছেন।

বিজিএমইএ—এর প্রথম সহ—সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, এই মুহূর্তে ট্যারিফ বাড়ানো হলে তা হবে রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে পোশাক খাতের জন্য একপ্রকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির পর প্রভাব, ইউক্রেন—রাশিয়া যুদ্ধ, ইসরাইল—গাজা সংঘাত, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির কারণে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত ইতোমধ্যেই সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়লে শিল্প খাতের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিচালনা ব্যয় ও উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনেই মাশুল পুনঃনির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ও চিফ পার্সোনেল অফিসার নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল এখনো অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, যেখানে চট্টগ্রামে ২০ ফুট কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ ৪৩.৪০ ডলার, সেখানে কলম্বো বন্দরে তা ১০০ ডলার এবং সিঙ্গাপুরে ৭৫ ডলার। উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান ট্যারিফ কাঠামোটি ১৯৮৬ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর ২০০৮ সালে মাত্র ৫টি খাতে হালনাগাদ করা হয়। ২০১৩ ও ২০১৯ সালে পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করা হলেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া এবং ব্যবহারকারীদের আপত্তির কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থার প্রণীত প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন খসড়া ট্যারিফ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের মতামতের আলোকে জুন মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply