মঈন উদ্দীন বাপ্পী, রাঙামাটি প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা রাঙামাটি বরাবরই তার ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু মৌসুমী ফল—বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, আনারস ও লিচুর জন্য সারা দেশে পরিচিত। এসব ফলের স্বাদ, মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত বৈশিষ্ট্য থাকায় দেশব্যাপী এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে, চলতি মৌসুমে শুধুমাত্র এই ফলজ খাত থেকেই রাঙামাটিতে প্রায় ১৫শো কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাঙামাটি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ৬২৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা থেকে প্রায় ৩৫২ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে। এছাড়াও, ৩ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ১ লক্ষ মেট্রিক টন ফলন মিলবে বলে আশা করা যাচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা।
এদিকে, ১ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এতে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ফল পাওয়া গেছে এবং এর বিপরীতে ইতোমধ্যেই ৩৪০ কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। অন্যদিকে, ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ করা হয়েছে। এতে ৫৮ হাজার মেট্রিক টন ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা থেকে আনুমানিক ৪৫০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে।
এ বিষয়ে রাঙামাটি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ—পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এবার আগাম বৃষ্টির কারণে ফলন মোটের ওপর ভালো হয়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে লিচুর ফলন কিছুটা কম হলেও আম, কাঁঠাল ও আনারসের উৎপাদন সন্তোষজনক। বাজারেও এসব ফলের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো। ফলে, চলতি মৌসুমে উৎপাদিত ফল থেকে প্রায় ১৫শো কোটি টাকার বাণিজ্যিক লেনদেন হবে বলে আমরা আশাবাদী।” তিনি আরও জানান, পাহাড়ি এলাকার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশ এসব ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তাই আগামীতে এই ফলজ খাতকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে আরও বড় পরিসরে কৃষি অর্থনীতি গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
