Thursday , 25 June 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
নারায়ণগঞ্জে জনবল সংকটে ‘আইসিইউ সেবা’ বন্ধ

নারায়ণগঞ্জে জনবল সংকটে ‘আইসিইউ সেবা’ বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় জেলায় সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান ও খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার জানান, ‘বর্তমান করোনাভাইরাসটি পূর্বের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন হলেও আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়ম—কানুন মেনে চললেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। শুধু সচেতন থাকা জরুরি।’ তাদের তথ্য মতে, জনবল সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জে ‘আইসিইউ সেবা’ আপাতত বন্ধ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে মঙ্গলবার (১৭ জুন) থেকে শুরু হয়েছে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট।

প্রথম দিনে ৮ জনের পরীক্ষা করা হয় এবং কারও করোনা শনাক্ত হয়নি। পরদিন আরও ২ জনের রিপোর্ট এসেছে নেগেটিভ। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন রোগীর করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। হাসপাতালের হাতে আপাতত ৩০০টি র্যাপিড কিট মজুদ রয়েছে। এছাড়া পিসিআর পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতিও চলছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দায়িত্বে থাকা মো. সাইফুল সালমান জানান, ‘করোনা পরীক্ষার কিটের সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের জন্য ২০০ কিট প্রদান করা হয়েছে। তারা নিয়মিত পরীক্ষা চালাচ্ছে। কিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং কিট আসার পর জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হবে।’

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় চিকিৎসা, পরীক্ষা ও পরামর্শ কেন্দ্রীয়ভাবে কযধহঢ়ঁৎ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে প্রদান করা হবে। অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা চলবে। যদিও এ নিয়ে কিছু রোগীর মধ্যে বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করেছেন—করোনা রোগী হলে খানপুরেই আসতে হবে। নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সুপার ডা. আবুল বাশার বলেন, “র্যাপিড টেস্ট চলছে এবং অচিরেই পিসিআর পরীক্ষাও চালু হবে। গুরুতর রোগীদের জন্য আইসোলেটেড বেড প্রস্তুত রয়েছে। তবে আইসিইউ বিভাগে জনবল সংকট রয়েছে।” এ অবস্থায় সরকার রাজধানীর ডিএনসিসি মার্কেট হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করেছে। নারায়ণগঞ্জের কেউ গুরুতর হলে সেখানে স্থানান্তর করার চিন্তাও চলছে। করোনা পরিস্থিতিতে আইসিইউ খুবই জরুরি।

জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা মহাপরিচালকের কাছে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই জেলা দ্রুত করোনা ভাইরাসের ‘এপিসেন্টার’ হিসেবে পরিণত হয়। সে কারণেই দেশের প্রথম লকডাউনও নারায়ণগঞ্জে দেওয়া হয়। যদিও ২০২৩ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ঘোষণা করেছে। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশে করোনার নতুন ‘ওমিক্রন’ ধরনের উপকরণ ‘জেএন—১’ শনাক্ত হয়, যা দ্রুত ছড়ানোর কারণে ‘ভেরিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে আইসিইউ আপাতত অকেজো। নতুন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে পিসিআর ল্যাব ও আইসিইউ বিভাগের গুরুত্ব পুনরায় বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে করোনা মহামারির প্রথম বছর ২০২০ সালে মোট ৭৫৫৯ জন মারা গেছেন। ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল—২০ হাজার ৫১৩ জন। এরপর ২০২২ সালে মৃত্যু হয়েছে ১৩৬৮ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ জন এবং ২০২৪ সালে ২২ জন। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া রোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply